নিউজ ডেস্ক (আন্তর্জাতিক) জলকদর নিউজ
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও বাংলাদেশে বরং জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। সেই তথ্য ধরে নিউজটি সাজিয়ে দিলাম।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিন। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ গতকাল নতুন দাম নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ সব ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বেড়েছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সোমবার তেলের দাম কিছুটা কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানি আংশিক পুনরুদ্ধারের খবরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম নেমে প্রায় ১০১ দশমিক ৭৫ ডলার এবং ডব্লিউটিআই প্রায় ৯৮ দশমিক ৩৪ ডলারে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘ সময়ের উচ্চমূল্য, আমদানি ব্যয় এবং জ্বালানি আমদানিতে বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে রয়েছে। বিপিসি জানিয়েছে, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানি আমদানির হিসাব মেটাতে তাদের প্রায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।
এর আগে সেপ্টেম্বরে দাম অপরিবর্তিত রাখলেও পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি ও আমদানি ব্যয়ের চাপ বিবেচনায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়।
বাড়বে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয়
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন, পণ্য পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ডিজেলের দাম বাড়ায় এর প্রভাব সরাসরি বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, নৌযান ও বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যয়ে পড়তে পারে।
ব্যবসায়ী ও শিল্পসংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়বে, যার প্রভাব পণ্যের বাজারদর ও মূল্যস্ফীতিতেও পড়তে পারে। রপ্তানিমুখী শিল্পের ক্ষেত্রেও বাড়তি ব্যয় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
বিশ্ববাজার ও বাংলাদেশের দামের পার্থক্য
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কোনো একটি দিনে কমলেই বাংলাদেশে একই সঙ্গে খুচরা দাম কমে যায় না। আমদানি মূল্য, পরিবহন ও জাহাজভাড়া, বিনিময় হার, কর-শুল্ক, বিপিসির আগের লোকসান এবং স্থানীয় মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দেশে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়।
ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে সাময়িক পতন থাকলেও তার প্রভাব বাংলাদেশে সঙ্গে সঙ্গে খুচরা পর্যায়ে প্রতিফলিত নাও হতে পারে।
এদিকে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার ফলে সাধারণ ভোক্তা থেকে শুরু করে পরিবহন ও শিল্পখাত—সব ক্ষেত্রেই জ্বালানি ব্যয়ের চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


