ডেস্ক রিপোর্ট (আন্তর্জাতিক) জলকদর নিউজ
ভারতের পাঞ্জাবের অমৃতসরে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও মেকআপ আর্টিস্ট মাদ সান্ধুকে (মধুসূদন সান্ধু) গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা। শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লোহরকা রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টার দিকে মাদ সান্ধু একটি কার ওয়াশ সেন্টারের সামনে নিজের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে দুই থেকে তিন রাউন্ড গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন জানিয়েছেন, খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করা হয়।
গুলিবিদ্ধ হয়ে সান্ধু রাস্তায় পড়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের বিষয়ে কিছু সূত্র পাওয়া গেছে এবং তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
কে ছিলেন মাদ সান্ধু?
মাদ সান্ধুর পুরো নাম মধুসূদন সান্ধু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ম্যাড সান্ধু’ নামেই তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন। তিনি মেকআপ আর্টিস্ট, ফ্যাশন স্টাইলিস্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ইনস্টাগ্রামে তার দুই লাখের বেশি অনুসারী ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফ্যাশন ও সৌন্দর্যচর্চার পাশাপাশি তিনি লিঙ্গ ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করতেন। কয়েকটি পাঞ্জাবি চলচ্চিত্রের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা ছিল। নিজের LGBTQ পরিচয়ের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময় ট্রল ও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি।
হত্যার দায় স্বীকারের দাবি
হত্যাকাণ্ডের পর ‘গোল্ডি ধিলোঁ’ নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ঘটনার দায় স্বীকার করে একটি পোস্ট দেওয়া হয় বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। ওই পোস্টে সান্ধুর বিরুদ্ধে পাঞ্জাবের সংস্কৃতি নষ্ট করার অভিযোগ তোলা হয়।
তবে ওই পোস্টটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে জড়িত ব্যক্তিদেরই কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই দাবিকে আপাতত নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
তদন্তে একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্বের হুমকি কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
ঘটনাটি পাঞ্জাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর আগে একই রাজ্যে আরও কয়েকজন সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর হামলা ও হত্যার শিকার হয়েছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যগুলো থেকে জানা যায়।


