28 C
Dhaka
Sunday, September 20, 2026

হাজারো মানুষকে অশ্রুসিক্ত করে চিরনিদ্রায় কুবি শিক্ষিকার একমাত্র ছেলে অপ্রতিম

মোহাম্মদ হেফাজ উদ্দীন : নিউজ ডেস্ক

হাজারো মানুষকে অশ্রুসিক্ত করে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। মাত্র ১৩ বছর বয়সেই নির্মমভাবে প্রাণ হারানো এই কিশোরকে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল সে। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিখোঁজের প্রায় একদিন পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটসংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় তুহিন (১৮) নামে এক তরুণকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও বিস্তারিত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।

অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সন্তান হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন তার বাবা-মা। বিশেষ করে একমাত্র সন্তানকে হারানোর বেদনায় মা ড. নাহিদা বেগমের কান্নায় উপস্থিত মানুষের চোখেও পানি চলে আসে।

রোববার সকালে কোটবাড়ি গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে অপ্রতিমের দ্বিতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা, স্বজনসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
দাফনের পর অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দ্রুত বিচার দাবি করেন। তিনি প্রশাসনের কাছে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মাত্র ১৩ বছরের একটি শিশুর এমন মৃত্যু শুধু তার পরিবারকেই নয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় জনপদকেও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। অপ্রতিমের চলে যাওয়া তার পরিবার ও স্বজনদের জীবনে যে শূন্যতা তৈরি করেছে, তা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। এখন পরিবারের পাশাপাশি এলাকাবাসীরও প্রত্যাশা—ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটিত হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles