আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জলকদর নিউজ
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এক শিশুসহ অন্তত চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বার্শের ছেলে বাসির আল-বার্শও রয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য স্থাপিত একটি অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে ইসরাইলি বিমান হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় বাসির আল-বার্শ নিহত হন। তিনি গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বার্শের ছেলে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাসিরকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তার বাবা মুনির আল-বার্শকে ছেলের মরদেহ হাসপাতালে নেওয়ার সময় শোকাহত অবস্থায় দেখা যায়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থীশিবিরের উত্তরে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে আহত হওয়ার পর ১০ বছর বয়সী এক কন্যাশিশু মারা গেছে। এছাড়া গাজা সিটির আশপাশে পৃথক দুটি হামলায় আরও দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আল-শিফা হাসপাতাল ও স্থানীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা।
শনিবার গাজা সিটির শেখ রাদওয়ান বাজার এলাকাতেও একটি বেসামরিক গাড়িতে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায় একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
হামলার বিষয়ে ইসরাইলের বক্তব্য
হামলাগুলোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি ইসরাইলি সেনাবাহিনীর কাছে জানতে চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বাসির আল-বার্শকে লক্ষ্য করে হামলার নির্দিষ্ট কারণ বা ইসরাইলি বাহিনীর দাবিকৃত সামরিক উদ্দেশ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
যুদ্ধবিরতির পরও হামলা, প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান ও হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামাসের সামরিক সক্ষমতা ও অস্ত্রসমর্পণের বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদের সামরিক অবস্থান বজায় থাকবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরাইলে হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ধ্বংস হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হতাহতের পরিসংখ্যান জাতিসংঘ সাধারণভাবে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


