নিজস্ব প্রতিবেদক : জলকদর নিউজ
ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফী হত্যা মামলায় হাইকোর্টে খালাস পাওয়া ১০ আসামি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার পর আদালতের খালাসের আদেশের ভিত্তিতে দেশের তিনটি কারাগার থেকে পর্যায়ক্রমে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে নুসরাত হত্যা মামলায় খালাসপ্রাপ্ত সাতজন এবং কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কামরুন্নাহার মণি মুক্তি পান। এর আগে সোমবার ফেনী জেলা কারাগার থেকে মাকসুদ আলম এবং চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রুহুল আমিন মুক্তি পেয়েছেন।
কারামুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—রুহুল আমিন, মাকসুদুল আলম, হাফেজ আব্দুল কাদের, আফসার উদ্দিন, কামরুন নাহার মণি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহিউদ্দিন শাকিল।
কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় স্বজনরা তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। কাশিমপুর কারাগারের সামনে সকাল থেকেই পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা অপেক্ষা করছিলেন। মুক্তির পর অনেকে স্বজনদের জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নুসরাতকে নিজ কক্ষে ডেকে শ্লীলতাহানি করেন—এমন অভিযোগে মামলা হয় এবং অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদরাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নিয়ে তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন থাকার পর ১০ এপ্রিল ২০১৯ নুসরাতের মৃত্যু হয়।

নিম্ন আদালতের রায় নুসরাত হত্যার ঘটনায় তাঁর বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করে।
হাইকোর্টের রায়ে পরিবর্তে চলতি বছরের ২৪ আগস্ট ২০২৬ হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে নিম্ন আদালতের সাজায় পরিবর্তন আনা হয়। আদালত দুই আসামি—সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর বাকি ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
যাবজ্জীবন পাওয়া চারজন হলেন—নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের এবং উম্মে সুলতানা ওরফে পপি।
হাইকোর্টের রায়ে খালাস পাওয়া ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে নুসরাতের পরিবার হাইকোর্টের রায়ের পর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।


