26 C
Dhaka
Thursday, September 17, 2026

মৃত্যুর আগে একটু পানি চেয়েছিলেন মহেশখালীর ফয়সাল।

নিউজ ডেস্কঃ জলকদর নিউজ

দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে, তাদের অনেকেই সমাজে সম্মান পায়-আর চোর সন্দেহে একজন নিরীহ মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়!

অভিযোগ রয়েছে, চোর সন্দেহে ফয়সলকে ধরে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে হাত-পা বেঁধে রাখা হয় এবং তার কাঁধের ওপর ইট চাপিয়ে দেওয়া হয়। প্রচণ্ড নির্যাতন ও পানির অভাবে তার গলা শুকিয়ে যাচ্ছিল। সে বারবার আকুতি জানাচ্ছিল একটু পানি পানি করে। আর বলেছিলেন “আমাকে ছেড়ে দিন প্লিজ। আমার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। আমার ছোট্ট একটা বাচ্চা আছে। আমার হাতের বাঁধনটা খুলে দেন। আমার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে একটু পানি দেন। আমি আর সহ্য করতে পারছি না…”

একজন মানুষ যখন মৃত্যুর আগে নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য এভাবে আকুতি-মিনতি করে, তখনও যদি তাকে বাঁচতে দেওয়া না হয়—এর চেয়ে হৃদয়বিদারক আর কী হতে পারে? ফয়সল শুধু নিজের জন্য বাঁচতে চায়নি। সে বাঁচতে চেয়েছিল তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও ছোট্ট সন্তানের জন্য।

প্রশ্ন হলো—চোর সন্দেহ হলেই কি কাউকে পিটিয়ে হত্যা করার অধিকার কোনো ব্যক্তির আছে? অবশ্যই নেই। অভিযোগ থাকলে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে। তদন্ত হবে, প্রমাণ সংগ্রহ হবে, আদালতে বিচার হবে। অপরাধী হলে দেশের প্রচলিত আইনে শাস্তি হবে। কিন্তু কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে একজন মানুষকে নিজের হাতে শাস্তি দেওয়া—এমনকি মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

ফয়সলের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের কান্না নয়; এটি আমাদের সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্যও একটি গুরুতর প্রশ্ন। একজন মানুষকে এভাবে নির্যাতন করে হত্যা করার অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

আমরা এমন একটি সমাজ চাই না, যেখানে সন্দেহই হয়ে যায় মৃত্যুদণ্ডের কারণ। চোর সন্দেহে মানুষকে পিটিয়ে হত্যা নয়—আইনের হাতে তুলে দিন। আজ ফয়সলের পরিবার কাঁদছে। আগামীকাল যেন আর কোনো পরিবারকে এভাবে কাঁদতে না হয়। ফয়সল হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত হোক। মানুষের জীবনের মূল্য আছে। আইনের শাসনের বিকল্প কোনো জনতার আদালত হতে পারে না।

এই লোমহর্ষক ও হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ফেইসবুকে শেয়ার দিয়ে সাবেক চিপ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন,
“এই বর্বরতা ঠেকাতে যারা এগিয়ে আসেনি, দাঁড়িয়ে থেকে তামাশা দেখেছে, ভিডিও করেছে কিন্তু পুলিশে খবর দেয়নি তারা সবাই অপরাধী। সবগুলোকে বিচার ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এই মানুষ নামক দুপেয়ে প্রানীগুলো কি একবারও চিন্তা করলো না যে কি জঘন‍্য অপরাধ তারা করলো! চুরির শাস্তি কি মৃত‍্যুদন্ড? সে যে চোর তা কে নির্ধারণ করলো? চোর হলেও তার বিচার ও শাস্তি দেয়ার অধিকার ওদেরকে কে দিলো? আমি সমাজের মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ে ভাবছি! এমন ঠান্ডা মাথায় মানুষ খুন করা হলো – দুজন মানুষও কেন রুখে দাঁড়ালো না? এ সমাজ কোন গন্তব‍্যে যাচ্ছে ? হে খোদা , আমাদের ক্ষমা করো! ”

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles