ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : জলকদর নিউজ
চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ হাটহাজারী–
নাজিরহাট সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে ডিভাইডার স্থাপন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সড়কটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির ১৯৫তম সভায় তিনি এ তাগিদ দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিণু।
সভায় হাটহাজারী–নাজিরহাট সড়কের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সড়কটি উত্তর চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত যোগাযোগপথ। ডিভাইডার না থাকায় এ সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং সম্প্রতি একাধিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানিও ঘটেছে। দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ডিভাইডার স্থাপনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অংশ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
তিনি বলেন, শুধু সড়ক নিরাপদ করাই নয়, উত্তর চট্টগ্রামের যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে পরিকল্পিতভাবে সড়কের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
সভায় উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। ভূমি অধিগ্রহণে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা হয়রানি যেন না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন হলেও এতে সাধারণ মানুষ যেন অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
সভায় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কয়েকটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১ দশমিক ৮৪০৪ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া সিডিএর ‘এন-১২১ জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের আওতায় জুলধা, শিকলবাহা, শাহমীরপুর ও বালাজপুরা মৌজায় মোট ৫৭ দশমিক ৯৩৮০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। একই সভায় মিরসরাই ও ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় ‘বারইয়ারহাট–হেঁয়াকো–রামগড় আঞ্চলিক সড়ক প্রশস্তকরণ’ প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়।
হাটহাজারী–নাজিরহাট সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও আশপাশের এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বিভিন্ন অংশে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ডিভাইডার স্থাপন ও প্রয়োজনীয় সম্প্রসারণ করা হলে সড়কটির সক্ষমতা ও নিরাপত্তা বাড়ার পাশাপাশি উত্তর চট্টগ্রামের যোগাযোগব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


