ডেস্ক রিপোর্ট, জলকদর নিউজ :
দুই বছর মেয়াদি শিক্ষা কার্যক্রমে বিমানভাড়া, আবাসন, খাবার ও চিকিৎসাসহ সব খরচ বহন করবে ফাউন্ডেশন
তুরস্কে দুই বছর মেয়াদি কুরআন শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি পেয়েছেন বাংলাদেশের সাত নারী শিক্ষার্থী। তুরস্কের আজিজ মাহমুদ হুদায়ি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দেওয়া এ বৃত্তির আওতায় তাঁরা দেশটির ইস্তাম্বুলে থেকে কুরআন ও ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি তুর্কি ভাষা এবং বিভিন্ন ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন।
গত ৫ অক্টোবর, সোমবার, শিক্ষার্থীরা ইস্তাম্বুলে পৌঁছান। সেখানে তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ইস্তাম্বুলে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেলের সহধর্মিণী ও শিক্ষিকা মারুফা বিনতে ইব্রাহিমী।
ইস্তাম্বুলে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কের প্রেসিডেন্সির সঙ্গে সম্পৃক্ত আজিজ মাহমুদ হুদায়ি ফাউন্ডেশন প্রথমবারের মতো বাংলাদেশি নারীদের জন্য এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ বৃত্তির ব্যবস্থা করেছে।
বৃত্তিতে যেসব সুবিধা পাবেন শিক্ষার্থীরা
এই বৃত্তির আওতায় সাত শিক্ষার্থীর বাংলাদেশ থেকে তুরস্কে যাওয়া-আসার বিমানভাড়া, আবাসন, খাবার, চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রীর সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করবে ফাউন্ডেশন।
দুই বছর মেয়াদি এ শিক্ষা কার্যক্রমে কুরআন শিক্ষার পাশাপাশি হাদিস, ফিকহ ও ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো শেখানো হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা তুর্কি ভাষা শেখার সুযোগ পাবেন।
ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি থাকবে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ
শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা, রোগ প্রতিরোধ এবং সুস্থ জীবনযাপন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ ছাড়া তরুণীদের প্রয়োজনীয় শিষ্টাচার, আদব-কায়দা ও সামাজিক আচরণ সম্পর্কেও শিক্ষা দেওয়া হবে।
পাশাপাশি বিভিন্ন আলোচনা, সেমিনার, কর্মশালা ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন তাঁরা। কোর্সের অংশ হিসেবে তুরস্কের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থানগুলোতে শিক্ষাসফরেরও আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে দেশটির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা।
বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারে নতুন সম্ভাবনা
বাংলাদেশি নারীদের জন্য প্রথমবারের মতো এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ বৃত্তির ব্যবস্থা করায় আজিজ মাহমুদ হুদায়ি ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ইস্তাম্বুলে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নারী শিক্ষার্থীদের ইসলামি জ্ঞান অর্জন ও দক্ষতা উন্নয়নে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


