বাঁশখালীতে জামায়াতের সংসদ সদস্য থাকার পাশাপাশি সরকারি দলের উল্লেখযোগ্য নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও ত্রাণ বিতরণে যুক্ত রয়েছেন।
বন্যাসহ সমসাময়িক বিভিন্ন দুর্যোগে সরকারি-বেসরকারি তহবিল থেকে হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে যেসব ত্রাণ ও সুযোগ-সুবিধা বিতরণ করা হয়েছে, তার যথাযথ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কেউ বারবার সহায়তা পেয়েছে, আবার কেউ বঞ্চিত হয়েছে।
তাই প্রকৃত অসহায় পরিবারগুলো সহায়তা পেয়েছে নাকি দলীয় বিবেচনায় তা বণ্টন করা হয়েছে—এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহায়তা হিসেবে বরাদ্দকৃত ৩০ হাজার টাকা কারা পেয়েছেন কিংবা দুই ঈদে এমপির ঈদ উপহার কারা পেয়েছেন, সেটিও সাধারণ মানুষ জানতে পারেনি।
সম্প্রতি আমার ইউনিয়ন গণ্ডামারায় একটি সংস্থার পক্ষ থেকে ৮০টি পরিবারের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সহায়তা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই সহায়তা যেন প্রকৃত অসহায় পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছায় এবং দলমত নির্বিশেষে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে উপকারভোগীদের তালিকা প্রকাশ করা প্রয়োজন।
আমরা প্রায়ই দেখতে পাই, কিছু পরিবার প্রকৃত অর্থে অসহায় না হয়েও বারবার সহায়তা পাচ্ছে। অন্যদিকে, প্রকৃত অসহায় অনেক পরিবার বারবারই বঞ্চিত হচ্ছে। এই বৈষম্য দূর করতে এবং বিতরণব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব তালিকা প্রকাশের আহ্বান জানাচ্ছি।
মনে রাখবেন, আপনারা চিরদিন ক্ষমতায় থাকবেন না। কিন্তু আপনাদের স্বচ্ছতা কিংবা অনিয়মের ইতিহাস রয়ে যাবে।
সরকার কিংবা এনজিও কর্তৃক দরিদ্র পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার উপকারভোগীদের তালিকা জনসম্মুখে উন্মুক্ত রাখা বাঞ্ছনীয়।
কলিম উল্লাহ মিজবা্হ, সমাজকর্মী


