নিজস্ব প্রতিবেদক | ১ নভেম্বর ২০২৬
আজ ১ নভেম্বর, জাতীয় যুব দিবস। ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারা দেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬।
দেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সামাজিক পরিবর্তনে যুবসমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরতে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়। তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আত্মকর্মসংস্থানে উৎসাহ প্রদান এবং উদ্যোক্তা তৈরির ওপর এবারের আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে সরকার ১৪ জন তরুণকে জাতীয় যুব পুরস্কার-২০২৬ প্রদান করছে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন চারজন যুব সংগঠক ও ১০ জন সফল আত্মকর্মী।
এ ছাড়া যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে রাজধানীতে ৫৫টি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে চাকরি মেলা। এ মেলার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সারা দেশে ১২ হাজার পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম, খাল খনন, স্বেচ্ছায় রক্তদান, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যুবঋণ বিতরণ এবং প্রশিক্ষণ সনদ প্রদান।
বর্তমানে দেশের যুবসমাজের সামনে বেকারত্ব, দক্ষতার ঘাটতি, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং উপযুক্ত কর্মসংস্থানের অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ এবং উদ্যোক্তা তৈরির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে দেশের অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।
জাতীয় যুব দিবসের মূল প্রত্যাশা—যুবসমাজের দক্ষতা, কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
যুবশক্তিই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোই হোক জাতীয় উন্নয়নের অঙ্গীকার।


