নিউজ ডেস্ক : জলকদর নিউজ ঢাকা।
নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) চালু করা বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ বা ‘পিংক বাস’ প্রত্যাশিত আয় করতে পারছে না। যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা ভাড়ায় বাসের জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মীদের বেতনসহ পরিচালন ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিনই সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
কালবেলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিআরটিসির একটি সূত্রের হিসাবে সারা দেশে নারী বাসসেবা পরিচালনায় প্রতিদিন অন্তত ৫০ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে এই ঘাটতি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১২ কার্যদিবসে নারী বাসগুলো ১৫৮টি ট্রিপ পরিচালনা করে ১৪ হাজার ১১৬টি টিকিট বিক্রি করেছে। এতে আয় হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৮ টাকা।
অন্যদিকে, আগস্টের ৮ কার্যদিবসে ১১৪টি ট্রিপে ৬ হাজার ৬৮৯টি টিকিট বিক্রি করে আয় হয়েছিল ৯৮ হাজার ৬৪৬ টাকা।
মিরপুর-১০ থেকে মতিঝিল রুটকে উদাহরণ হিসেবে ধরলে, একমুখী দূরত্ব ২১ কিলোমিটার। যাওয়া-আসায় একটি ট্রিপে বাসকে ৪২ কিলোমিটার চলতে হয়। প্রতি লিটার ডিজেলে ২ থেকে আড়াই কিলোমিটার চললে এক ট্রিপেই প্রায় ১৬ দশমিক ৮ থেকে ২১ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। প্রতি লিটার ১১৫ টাকা হিসাবে শুধু জ্বালানি খরচ পড়ে প্রায় ১ হাজার ৯৩২ থেকে ২ হাজার ৪১৫ টাকা। এর সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও যুক্ত হয়।
যাত্রী কম থাকায় বাড়ছে ঘাটতি, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬০ আসনের বাসে প্রতিটি ট্রিপে গড়ে প্রায় ২০টি আসন খালি থাকছে। অর্থাৎ বাসের আসন পূর্ণ না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আসছে না।
বিআরটিসির ব্যবস্থাপক মো. নূর-ই-আলম জানান, নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এই সেবা চালু করা হয়েছে। তাই শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব দিয়ে সেবাটির প্রয়োজনীয়তা বিচার করা হচ্ছে না। তবে ভর্তুকির কারণে বিআরটিসির ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাসের সংখ্যা বাড়ানো গেলে আয়ও বাড়তে পারে। একটি ট্রিপে অন্তত ১২০ জন যাত্রী পাওয়া গেলে আয় ও ব্যয় প্রায় সমান পর্যায়ে আসবে বলে তিনি জানান।
নারী বাসসেবা নিয়ে আরেকটি বিষয় আলোচনায় এসেছে—সপ্তাহে শুক্রবার ও শনিবার বাস চলাচল বন্ধ রাখা হচ্ছে। বিআরটিসির ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, ওই দুই দিন কর্মজীবী নারী যাত্রী কম পাওয়া যায় বলে বাস বন্ধ রাখা হয়। তবে এতে সেবার পরিধি ও সম্ভাব্য আয়—দুটিই সীমিত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ১৮ আগস্ট বিআরটিসি নারীদের জন্য ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ চালু করে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় ১৩টি রুটে ১৪টি বাস দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। এর মধ্যে ঢাকায় ১০টি, চট্টগ্রামে দুটি এবং বগুড়ায় দুটি বাস রয়েছে। ঢাকার বাসগুলোর মধ্যে একটি একতলা এবং নয়টি দ্বিতল বাস।
নারীদের নিরাপদ গণপরিবহন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে চালু হওয়া এই বিশেষ বাসসেবা এখন একদিকে যাত্রীদের প্রত্যাশা পূরণের চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে পরিচালন ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ—দুইয়ের মুখোমুখি। যাত্রীসংখ্যা বাড়িয়ে কীভাবে সেবাটিকে আর্থিকভাবে আরও টেকসই করা যায়, সেটিই এখন সংশ্লিষ্টদের সামনে বড় প্রশ্ন।


