তাসমিনা খন্দকার, লন্ডন।
স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ব্যক্তিগত জীবন ও দুর্নীতির আসল আমলনামা। উনার ডাকনাম পুতুল এবং তিনি ১৯৭২ সালের ৯ই ডিসেম্বর ঢাকা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৯৫ সালে খন্দকার মাশরুর হোসেন মিতুর সাথে উনার বিয়ে হলেও দীর্ঘ ২৫ বছর পর ২০২১ সালে দুবাইয়ের আদালতে তাদের চূড়ান্ত বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।
সেই বিচ্ছেদ চুক্তি অনুযায়ী পুতুল নগদ আড়াই লাখ ডলার এবং আমেরিকার ফ্লোরিডা রাজ্যে সাড়ে ১০ কোটি টাকা মূল্যের ২টি বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদ নিজের নামে লিখে নেন! পুতুলের ঘরে মোট ৪ জন সন্তান রয়েছে—যার মধ্যে ৩ জন কন্যা সেমন্তী হোসেন, সিনথিয়া হোসেন, সুফিয়া হোসেন এবং একমাত্র ছেলে জারিফ হোসেন। তারা প্রত্যেকেই মূলত কানাডার পাসপোর্ট ব্যবহার করে এবং মায়ের পাচার করা কালো টাকায় প্রবাসে বিলাসবহুল জীবন কাটাচ্ছেন। উনার বড় মেয়ে সেমন্তী হোসেন কানাডার টরন্টোতে বিলাসী জীবনযাপনের পাশাপাশি দক্ষিণভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন খ্রিষ্টান স্বামী নিখিল জর্জের সাথে এক রাজকীয় ফ্যামিলি সেটআপ গড়ে তুলেছেন।
বাকি সন্তানদের মধ্যে মেজো মেয়ে সিনথিয়া হোসেন এবং ছোট মেয়ে সুফিয়া হোসেন ক্যানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা শেষ করে ওখানেই করপোরেট চাকরি করছেন। একমাত্র ছেলে জারিফ হোসেন, যাঁর বর্তমান বয়স ২৪ বছর; তিনি মায়ের পাচার করা টাকায় ক্যানাডায় বিলাসবহুল লাইফস্টাইল মেইনটেইন করার পাশাপাশি আইটি ব্যবসা গড়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। আইনি রেকর্ড অনুযায়ী, দেশের মাটিতে পুতুলের নিজের গড়া ভুয়া ‘সূচনা ফাউন্ডেশন’-এর ১৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ শেখ পরিবারের মোট ১৫৫টি গোপন হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে,
যেখানে পুতুলের নিজস্ব অ্যাকাউন্টের ৪৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা এবং যৌথ অ্যাকাউন্টগুলোর আরও ৩৯৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা বাংলাদেশ সরকার আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ জব্দ ও লক করে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে! সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতা, জাল নথিপত্র এবং ক্ষমতার জোরে সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যাংক জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করার পর থেকেই জাতিসংঘের এই আন্তর্জাতিক তদন্ত শুরু হয় ।
এই দুর্নীতির খতিয়ান সামনে আসতেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেড্রোস পুতুলকে কোনো প্রকার বেতন ছাড়া অনির্দিষ্টকালের জন্য চাকরি থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে ছুটিতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।
দীর্ঘ এক বছর ধরে কোনো বেতন না পাওয়ায় পুতুলের আর্থিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে পড়ে এবং সেই তীব্র অর্থাভাবের কথা তিনি নিজেই তাঁর অফিশিয়াল পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করতে বাধ্য হয়েছেন! আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্সের গোপন নথির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পুতুলের বিরুদ্ধে চীন সফরে ৯০১ ডলারের ভ্রমণ বিল জালিয়াতি এবং বাংলাদেশে ক্ষমতার জোরে অবৈধভাবে ভিআইপি জমি গ্রাসেরও সুনির্দিষ্ট গুরুতর অভিযোগ এনেছিল!
এই রাজকীয় চোরের মেয়ে কিন্তু স্বেচ্ছায় বা খুশি হয়ে পদত্যাগ করেননি; চারপাশের আইনি ফাঁসি ও তদন্তের জাল যখন একদম গলার কাছে চলে এসেছে, তখন চূড়ান্ত বরখাস্তের বড় অপমান থেকে বাঁচতে তিনি তড়িঘড়ি করে “পদত্যাগ” নামক নাটক করে ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়েছেন।
সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে দেশে মোট ৯টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ১টি দুর্নীতি মামলায় তাঁর ৫ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে এবং বাকি ৮টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। শেখ হাসিনা ও তার মেয়ে পুতুলের দুর্নীতির সব খবর দেখে শুনে মনে হচ্ছে—আল্লাহর দুনিয়ার এমন কোনো দুর্নীতিই নাই যা তারা করতে বাকি রেখেছে!! বাংলাদেশের সহজ-সরল মানুষের সাথে তারা চরম প্রতারণা করেছে এবং আজ তাদের অহংকার ধুলোয় মিশে গেছে! এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সরকার নিশ্চিত করুক


