ক্যাম্পাস প্রতিনিধি: জলকদর নিউজ
মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুরে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলের লিফটে ওঠাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়।
২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাতুল হাসান রুম্মান ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী হোসাইন শরীফকে লিফট ধরার জন্য ‘হেই ব্রো, লিফটটি ধরেন’ বলে ডাকেন। সিনিয়রকে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলায় শরীফ ক্ষুব্ধ হন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও পরে হাতাহাতি হয়।
রুম্মানের দাবি, ক্লাস শেষে ক্লান্ত থাকায় তিনি অসাবধানতাবশত ‘ভাই’-এর পরিবর্তে ‘ব্রো’ বলেছিলেন। এরপর তাকে বকাঝকা ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দুপুরের ঘটনার জের ধরে রাতে শেরেবাংলা হলের ডাইনিং/ক্যান্টিনের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় রাতুল হাসান রুম্মান ও হোসাইন শরীফ—দুজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে।
শরীফের অভিযোগ, রাতে রুম্মানসহ কয়েকজন তার পথরোধ করে হামলা করেন। আত্মরক্ষার সময় রুম্মানের কপালে আঘাত লাগে। অন্যদিকে রুম্মান অভিযোগ করেছেন, তাকে বকাঝকা ও মারধর করা হয়েছে।
ঘটনার একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় বলে সংবাদ মাধ্যমে ওঠে এসেছে। হোসাইন শরীফ অভিযোগ করেন, জিব্রাইল শরীফ কয়েকজনকে নিয়ে এসে তাকে হলের বাইরে নিয়ে যান এবং গালাগাল ও হুমকি দেন।
তবে জিব্রাইল শরীফ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, তিনি হলে হইচই শুনে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গিয়েছিলেন। পরে অন্য শিক্ষার্থীরা সেখানে এসে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে জিব্রাইল শরীফের কক্ষে ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ব্যাচভিত্তিক বিরোধ বলে মনে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এদিকে শেরেবাংলা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বিডিনিউজকে জানিয়েছেন, লিফটে ওঠাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছোটখাটো মারামারির ঘটনা ঘটেছে এবং বিষয়টি পুলিশের নজরে রয়েছে।


