31 C
Dhaka
Friday, September 11, 2026

বাঁশখালীতে অসহায় বৃদ্ধা বিধবার জন্য নির্মিত হলো নতুন ঘর

তৌহিদ-উল বারী, (চট্টগ্রাম):

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সিখীলে অসহায় এক বৃদ্ধা বিধবার জন্য নতুন ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে মানবিক ফাউন্ডেশন কমিউনিটি (এফএমসি) ও অজ্ঞাত রোগীর বন্ধু নেসার ফাউন্ডেশন। দীর্ঘদিনের অনিরাপদ বসবাসের অবসান ঘটিয়ে নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ওই বৃদ্ধা।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃদ্ধার হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়। পরে লাল ফিতা কেটে এবং দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে ঘরটির উদ্বোধন করা হয়। ঘর নির্মাণের পুরো কার্যক্রম সমাজকর্মী আনিসুল আজম চৌধুরীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়।

এ সময় মানবিক সংগঠনের সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন ঘরের চাবি হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত বৃদ্ধা বলেন, “আমি এই ঘর পেয়ে আত্মহারা। তোমরা যারা সাহায্য-সহযোগিতা করেছো, সবাই আমার সন্তান। আমি তোমাদের জন্য রবের কাছে মা হয়ে দোয়া করবো।”

সমাজকর্মী আনিসুল আজম চৌধুরী বলেন, বন্যা-পরবর্তী সময়ে বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে মোট ৬০টি ঘর নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মুন্সিখীলে এই বৃদ্ধার জন্য ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন শুধু তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠন সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে আরও বেশি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া সম্ভব।

স্থানীয়রা জানান, একজন অসহায় মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ঘর নির্মাণ মানে শুধু একটি স্থাপনা তৈরি করা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নিরাপত্তা, স্বস্তি ও নতুন করে বেঁচে থাকার প্রত্যাশা। বিশেষ করে বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য স্থায়ী বা নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উদ্যোক্তারা জানান, বন্যা-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ধারাবাহিকতায় তাদের এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে পুনর্বাসন কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

একজন অসহায় বৃদ্ধা বিধবার হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে মানবিক সহায়তার এ উদ্যোগে যেমন একটি পরিবারের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা হয়েছে, তেমনি বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনে সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগেরও একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles