31 C
Dhaka
Friday, September 11, 2026

এখন যেভাবে আছেন, ঠিক সেভাবেই যদি আপনার মৃত্যু হয়! কেমন হবে তার পরিণতি?

বিশেষ প্রতিবেদন : নিউজরুম এডিটর

এক মুহূর্তের জন্য চোখ দুটি বন্ধ করুন। বুকে হাত রেখে শুনুন নিজের হৃৎস্পন্দন। এই ধুকপুক আওয়াজটি কিন্তু অনন্তকালের নয়; আসমানে নির্ধারিত কোনো এক সেকেন্ডে এটি চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যাবে। আজ সকালে ঘর থেকে যে জামাটি পরে বের হয়েছেন, সেটাই আপনার কাফনের আগের শেষ পোশাক নয় তো?

মৃত্যুর আসল রূপ প্রকাশ!

মানুষ সারা জীবন যাকে অন্তরে লালন করে, মৃত্যুর অচেতন মুহূর্তে তার অবচেতন মন ঠিক সেটাই প্রকাশ করে দেয়। যে মানুষটি যৌবন বিলিয়ে দিয়েছিল মাদক-গান-বাজনা আর অশ্লীলতায়—জীবনের অন্তিম লগ্নে তাকে বারংবার কালেমা পড়ানোর চেষ্টা করলেও তার অবশ ঠোঁট দিয়ে গানের সুর আর অর্থহীন প্রলাপ বের হতে দেখা গেছে। মৃত্যুর সেই চরম দোরগোড়ায় এসে বাস্তবিকই কোনো অভিনয় আসলে খাটে না; জীবনের জমাট বাঁধা আসল চরিত্রটিই সেখানে উন্মোচিত হয়।

নেককার বনাম পাপীর মৃত্যু

একটিবার চোখ বন্ধ করে দুটি ভিন্ন মৃত্যুর দৃশ্য কল্পনা করুন। একদিকে এক সৌভাগ্যবান বান্দা—রাতের নিস্তব্ধতায় রবের প্রেমে সিজদায় পড়ে আছে, আর সেই নরম জায়নামাজে কপাল ঠেকানো অবস্থাতেই পরম শান্তিতে তার রুহটি আসমানে উড়ে গেল। মুখে লেগে রইল এক অপার্থিব শুভ্র হাসি।

আর অন্যদিকে—কোনো এক হতভাগা, যে গোপনে কোনো পাপের স্ক্রিনে চোখ রেখেছিল কিংবা কোনো হারাম সম্পর্কের বিষাক্ত তৃপ্তিতে ডুবে ছিল; ঠিক সেই মুহূর্তে বিদ্যুৎ চমকের মতো থাবা বসাল মৃত্যুর ফেরেশতা! পেছনে পড়ে রইল তার অপকর্মের জ্বলজ্বলে প্রমাণ। একবার ভাবুন, এমন এক চরম অপমানের মুহূর্তে মালাকুল মউতের মুখোমুখি হওয়ার দুঃসাহস কি আপনার আছে?

মৃত্যুর ওপরই হাশরের ফায়সালা

রাসূল ﷺ উম্মতকে হুঁশিয়ার করে গেছেন: “প্রত্যেক বান্দাকে ঠিক সেই অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে, যে অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছিল।” (সহিহ মুসলিম: ২৮৭৮)

যিনি হজের ইহরাম পরা অবস্থায় ইন্তেকাল করবেন, হাশরের দিন তিনি তালবিয়া পাঠ করতে করতে কবর থেকে উঠবেন। আর যে ব্যক্তি মদের বোতল হাতে কিংবা সুদের খাতায় সই করা অবস্থায় মারা যাবে, সে কোটি কোটি মানুষের সামনে সেই লাঞ্ছনা নিয়েই নগ্ন পদে রবের সামনে গিয়ে দাঁড়াবে।

এখনো শেষ হয় নি তাওবার সুযোগ!

বুক কি কেঁপে উঠেছে? ভেতরে কি অপরাধবোধের তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়েছে? তবে জেনে রাখুন—এই ভয়ই আপনার নতুন জীবনের আলো। আপনার রবের রহমতের সীমানা আপনার সমস্ত পাপের চেয়েও বহু গুণ বিস্তৃত। তিনি এখনো আপনার নিঃশ্বাস চালু রেখেছেন মানে, তিনি এখনো চান আপনি ফিরে আসুন।

আল্লাহ তাআলা নিজেই বলছেন: “বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা আয-যুমার: ৫৩)

অতএব, এত দুশ্চিন্তা কীসের? অতীতের সমস্ত নোংরামি আর ভুলের জন্য বাচ্চাদের মতো ফুঁপিয়ে কাঁদুন না একটু। চোখের দুফোঁটা নোনা জল দিয়ে অতীতের সমস্ত আমলনামা ধুয়ে ফেলুন। দুই হাত তুলে আকুল হয়ে ফরিয়াদ করুন—“হে আমার মালিক! আমার জীবনকে তুমি যেমনই দেখেছ, আমার মরণকে তুমি সুন্দর করে দাও। কোনো পাপের মধ্যে নয়, তোমার ভালোবাসায় এক দীর্ঘ সিজদারত অবস্থায় তুমি আমার এই প্রাণবায়ু কবুল করে নিও।”

মনে রাখবেন, রবের দরবারে যে বান্দা কাঁদতে কাঁদতে ফিরে আসে, তাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া তাঁর শানের খেলাফ। ফিরে আসুন, দরোজা এখনো খোলা।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles