মুসলিম বিশ্বের মধ্যে ঐক্য জোরদার এবং পারস্পরিক বিরোধ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
একই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় মুসলিম দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ইস্তাম্বুলে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম উপলক্ষে আয়োজিত ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এরদোয়ান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি ঐক্যের মধ্যে কল্যাণ রয়েছে। নিজেদের মধ্যে এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্বে জোট শক্তিশালী ও মতপার্থক্য কমাতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
এরদোয়ান বলেন, শত শত বছর ধরে ইতিহাস গঠন ও বিশ্বে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা মুসলমানরা আবারও যেন ‘দেয়ালের ইটের মতো’ একসঙ্গে যুক্ত হয়, সেটিই তার প্রত্যাশা। মুসলিমদের মধ্যে ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তুর্কি প্রেসিডেন্ট তাদের অধিকার রক্ষায় এবং অঞ্চলজুড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা ভালো ও মন্দের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, ভালোই জয়ী হবে।’ এ সময় ই’স’রা’ই’লে’র প্রসঙ্গ তুলে দেশটির নেতাদের কঠোর সমালোচনা করে এরদোয়ান বলেন, ‘জায়নবাদ নামে পরিচিত উগ্র, দখলদার ও গণহত্যামূলক মতাদর্শ’ শুধু প্রতিবেশী দেশগুলোর শান্তির জন্যই হুমকি নয়, বরং যারা মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় সোচ্চার, তাদেরও লক্ষ্যবস্তু করছে। হিটলার ও কম্বোডিয়ার সাবেক স্বৈরশাসক পল পটের আমলে সংঘটিত নৃশংসতার সময় বিশ্বের নীরবতার কারণে বেসামরিক মানুষকে চরম মূল্য দিতে হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন এরদোয়ান। বলেন, গা’জা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননেও একই ধরনের নিষ্ক্রিয়তার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ই’স’রা’ই’লে’র ‘গ’ণ’হ’ত্যা’র নেটওয়ার্কের আইনবহির্ভূত নীতির’ বিরুদ্ধে বিশ্ব যথাযথভাবে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এসব নীতি আন্তর্জাতিক আইন, নীতি, মূল্যবোধ ও সীমারেখাকে উপেক্ষা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গা’জা’কে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় শিশুদের কবরস্থান’ হিসেবে উল্লেখ করে এরদোয়ান বলেন, সেখানে শিশুদের ওড়ানো ঘুড়িকেও হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে ই’স’রা’ই’ল বাধা দিচ্ছে।

গা’জা’র বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে এরদোয়ান বলেন, ফি’লি’স্তি’নি’রা ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন। মৌলিক প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার অভাবের মধ্যেই তাদের জীবন কাটাতে হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ই’স’রা’ই’লে’র “যু’দ্ধ’পা’গ’ল সরকার” প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে শুরু করে পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। লেবাননের পরিস্থিতিও তুলে ধরেন এরদোয়ান। তার দাবি, ই’স’রা’য়ে’লি হা’ম’লা’য় দেশটিতে ১৩ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত, ৪ হাজারের বেশি মানুষ নি’হ’ত এবং ১২ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। নি’হ’ত’দের অধিকাংশই নারী ও শিশু বলে দাবি করেন তিনি।
এরদোয়ান বলেন, জায়নবাদের সম্প্রসারণবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয়ে তুরস্ক যে বিশ্বকে সতর্ক করছে, তা শুধু তুরস্কের স্বার্থে নয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই অঞ্চলের সব মানুষের স্বার্থে এবং মানবতার পক্ষে’ তুরস্ক এ অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সব প্রচেষ্টার লক্ষ্য হলো আমাদের অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা।’ মুসলিম বিশ্বে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় তুরস্ক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান এরদোয়ান।


