আকাশ চক্রবর্তীর চট্রগ্রামের হাটহাজারীর চন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা সে। বাবা নিতাই চক্রবর্তী একজন রিকশাচালক। সংসার চালাতে সারাদিন পরিশ্রম করেন। সারাদিন রিকশার প্যাডেলের উপর নির্ভর করে ছিলো সংসারের খরচ, ছেলের পড়াশোনাসহ যাবতীয় সবকিছুই। তবুও ক্লান্তি বোধ করেননি। মনে মনে ভাবেন একদিন সব দুঃখ গুছে যাবে, যদি ছেলেটাকে পড়াশোনা করিয়ে মানুষের মতো মানুষ করতে পারেন!

আকাশ এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলো। পড়াশোনার জন্য পায়নি বিশেষ কোনো সুবিধা। কোচিং করা ছিলো এক প্রকারের বিলাসিতা। তবে নিজের চেষ্টার বিন্দু পরিমাণ খামতি ছিলো না। পরিশ্রম করেছেন লাগাতর। ভাবতেন দরিদ্র রিকশাচালক বাবার কথা। কিভাবে তাকে পড়িয়েছেন সে কথা ভেবেই নিজের অধ্যবসায় ধরে রেখেছেন আকাশ। কষ্ট বৃথা যায়নি। স্থানীয় আলীপুর রহমানিয়া স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পেয়েছে জিপিএ-৫!
তার এই ফলাফলে ঘরে যেন ঈদের চাঁদ। খুশিতে আত্মহারা আকাশের মা-বাবাসহ, শিক্ষক ও প্রতিবেশীরা। এ তো সবেমাত্র শুরু। আকাশের স্বপ্ন অনেক বড়। সে বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশের গরিব ও অবহেলিত মানুষের সেবা করতে চায়।
ছেলের সাফল্যে চোখে আনন্দের পানি নিতাই চক্রবর্তীর। তিনি বলেন, “আমি রিকশা চালাই, কিন্তু আমার স্বপ্ন আমার সন্তান উচ্চ শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে বড় অফিসার হোক, কর্মজীবনে মানুষের উপকার করুক। অভাবের কাছে আমরা হার মানিনি!”


