সারা শরীর অবশ। ডান হাতটিও পুরোপুরি সচল নয়। চলাফেরা ও দৈনন্দিন কাজেও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতা যেন প্রতিনিয়তই তাকে থামিয়ে দিতে চেয়েছে। কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম ও পড়াশোনার প্রতি গভীর আগ্রহের কাছে হার মেনেছে সব প্রতিকূলতা। শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পলাশতলী গ্রামের ইয়াসির ইসলাম নিরব।

নিরব উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের পলাশতলী গ্রামের দরিদ্র কৃষক সিরাজুল ইসলামের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। বাবা কৃষিকাজ করে কোনোমতে সংসার চালান ও মা গৃহিণী।
পরিবারের অল্প জমিতে চাষাবাদ করেই চলে তাদের পাঁচ সদস্যের সংসার। আর এই পরিবারের বড় সন্তান নিরবের চোখে এখন বড় স্বপ্ন- ডাক্তার হয়ে অসহায়, দরিদ্র ও শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের সেবা করা।
তবে মেধা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়ে এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করলেও উচ্চশিক্ষার পথে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবারের আর্থিক অনটন। ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার মতো সামর্থ্য নেই দরিদ্র কৃষক বাবার। তাই নিজের স্বপ্ন পূরণে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছে নিরব ও তার পরিবার।
সে আরও বলে, ‘আমি লেখাপড়া করে ডাক্তার হতে চাই। কিন্তু আমার বাবা-মায়ের সামর্থ্য নেই আমাকে উচ্চশিক্ষায় পড়ানোর। তাই শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আকুল আবেদন- দারিদ্র্যের কারণে যেন আমার লেখাপড়া বন্ধ না হয়। আমার স্বপ্ন যেন থেমে না যায়। আমি ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করতে চাই।’
নিরবের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ছেলেকে নিয়ে আমাদের সব সময়ই চিন্তা হতো। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে ওকে অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে পড়াশোনা করতে হয়েছে; কিন্তু ও কখনো হাল ছাড়ে�


