আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুদ্ধের ভয়াবহতা, ধ্বংসস্তূপ আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও জীবন ধরে রাখার চেষ্টা করছেন ফিলিস্তিনিরা। একসময় যেখানে ছিল বসতবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল ও বাজার—সেসব জায়গার অনেকটাই এখন পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। চারপাশে বিধ্বস্ত ভবন, ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো আর মানবিক সংকটের মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন অসংখ্য মানুষ।
যুদ্ধের কারণে বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছে অস্থায়ী তাঁবু, আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাসায়। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। শিশু, নারী ও বয়স্কদের নিয়ে অনেক পরিবারকে প্রতিদিনই নতুন করে বেঁচে থাকার পথ খুঁজতে হচ্ছে।
ধ্বংসস্তূপের মাঝেও স্বজনদের খোঁজে ছুটছেন অনেকে। কেউ হারিয়েছেন বাবা-মা, কেউ সন্তান কিংবা জীবনসঙ্গী। আবার কেউ দিনের পর দিন নিখোঁজ স্বজনের কোনো খবরের অপেক্ষায় রয়েছেন। স্বজন হারানোর শোকের পাশাপাশি মাথার ওপর ছাদ হারানোর যন্ত্রণাও বহন করতে হচ্ছে তাদের।
সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি শিশুরা। অনেক শিশুর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে, অনেকে হারিয়েছে প্রিয়জন ও নিরাপদ শৈশবের পরিবেশ। যুদ্ধের আতঙ্ক ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
তবে এই বিপর্যয়ের মধ্যেও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে টিকে থাকার দৃঢ়তা দেখা যাচ্ছে। ধ্বংস হওয়া ঘরবাড়ির পাশে কেউ অস্থায়ী আশ্রয় তৈরি করছেন, কেউ খাবার সংগ্রহ করছেন, আবার কেউ স্বজনদের নিয়ে নিরাপদ কোনো জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন। স্থানীয়ভাবে মানুষ একে অন্যের পাশে দাঁড়িয়ে খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
মানবিক সহায়তা পৌঁছালেও প্রয়োজনের তুলনায় তা কতটা পর্যাপ্ত—এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। যুদ্ধের কারণে অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে থাকা এই মানুষগুলোর কাছে এখন সবচেয়ে বড় চাওয়া—নিরাপত্তা, স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ এবং নিজেদের হারানো ঘরবাড়ি ও ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের সুযোগ। যুদ্ধ থামার পরও ধ্বংস হওয়া নগরী পুনর্গঠন, বাস্তুচ্যুত মানুষকে পুনর্বাসন এবং শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে বহু স্বপ্ন; কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই জীবনকে আঁকড়ে ধরে আছেন ফিলিস্তিনিরা। প্রতিদিনের এই লড়াই শুধু বেঁচে থাকার নয়—নিজেদের পরিবার, স্মৃতি ও ভবিষ্যৎকে ধরে রাখারও লড়াই।


