নিউজ ডেস্ক : জলকদর নিউজ
জান্নাতুল ফেরদৌস নামে এই নারী প্রায় ১০ বছর আগে মালয়েশিয়া প্রবাসী সাইফুল ইসলাম খোকনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর জান্নাত পড়ালেখা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। স্ত্রীর সেই ইচ্ছাকে সম্মান করে খোকন তাকে প্রায় ৪ বছর পড়াশোনার খরচ দেন। শেষ পর্যন্ত জান্নাত অনার্স পাশ করেন।
এরপর জান্নাতের আরেকটি ইচ্ছা ছিলো সে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেবেন। এজন্য চাঁদপুর থেকে ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে কোচিং করবেন।
সত্যি বলতে, এই জায়গায় অনেক পুরুষ ই রাজি হতেন না।
একজন অল্পবয়সী বিবাহিত নারী বছরের পর বছর একা ঢাকায় বাসা নিয়ে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেবেন এটা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে নানা প্রশ্ন আসতে পারে।
কিন্তু খোকন তার স্ত্রীকে বিশ্বাস করেছিলেন। ভালোবাসতেন। তাই স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হননি।
প্রবাসে থেকে দিনের পর দিন পরিশ্রম করে উপার্জন করেছেন। নিজের জন্য সঞ্চয় না করে বছরের পর বছর স্ত্রীকে টাকা পাঠিয়েছেন বাসা ভাড়া, বাজার খরচ, কোচিংসহ পড়াশোনার যাবতীয় ব্যয় চালানোর জন্য।
অবশেষে কয়েকবার চেষ্টা করার পর এ বছর জান্নাতের সরকারি চাকরি হয় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে অফিস সহকারী পদে।
কিন্তু চাকরি পাওয়ার পর থেকেই জান্নাতের আচরণে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। স্বামীর সঙ্গে কথা বলা কমে যায়, ফোন এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগও ওঠে।
কয়েক মাস এভাবে চলার পর খোকন বুঝতে পারেন, তার স্ত্রী হয়তো আর আগের মতো তাকে ভালোবাসছেন না।
জুলাই মাসে কাউকে কিছু না জানিয়ে তিনি দেশে ফিরে আসেন। এরপর সরাসরি জান্নাতের অফিসে গিয়ে স্ত্রীকে সারপ্রাইজ দিতে চান।
কিন্তু যে মানুষটির জন্য এত বছর প্রবাসে থেকে পরিশ্রম করেছেন, সেই মানুষটি তাকে দেখে খুশি হননি বরং জান্নাত বিরক্ত হন এবং অফিস থেকে চলে যান।
এর কয়েকদিন পর জান্নাত খোকনকে তালাকের নোটিশ পাঠান৷
একজন মানুষ ১০ বছর প্রবাসে থেকে কষ্ট করল। নিজের স্বপ্ন, সঞ্চয় কিংবা আরামের কথা না ভেবে স্ত্রীর পড়াশোনার পেছনে টাকা খরচ করল। অনার্স করাল। ঢাকায় বাসা ভাড়া করে দিল। বাজার খরচ দিল। সরকারি চাকরির কোচিংয়ের খরচ দিল।
স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে নিজের কত স্বপ্ন যে পিছনে ফেলে রেখেছিল সেটার হিসাব হয়তো কোনো আদালতই করতে পারবে না।


