27 C
Dhaka
Wednesday, October 28, 2026

জিপিএ-৫ পেয়েছে বন্ধু, বিশ্বাস হয়নি আরেক বন্ধুর; গোপনে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন, ফল এলো ‘ফেল’

ডেস্ক রিপোর্ট

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে চাঞ্চল্য, নম্বর পরিবর্তনের অভিযোগে তদন্তে নেমেছে কর্তৃপক্ষ

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া এক শিক্ষার্থীর ফলাফল নিয়ে সন্দেহ ছিল তার এক বন্ধুর। বন্ধুটি মনে করত, জিপিএ-৫ পাওয়ার মতো ফল করার যোগ্যতা তার বন্ধুর নেই। সেই সন্দেহ থেকেই বন্ধুর অজান্তে তার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করে বসে সে। পরে পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হলে দেখা যায়, জিপিএ-৫ পাওয়া সেই শিক্ষার্থী আসলে ফেল করেছে। ঘটনাটি ঘিরে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও নম্বর পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন এ ঘটনা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করার ক্ষেত্রে যাচাইকরণ কোডের প্রয়োজন না থাকায় ওই শিক্ষার্থী বন্ধুর পরিচয়ে আবেদনটি করতে সক্ষম হয়।

নম্বর পরিবর্তনে বড় ধরনের গরমিলের অভিযোগ

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে, কয়েকটি ক্ষেত্রে নম্বরের অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো শিক্ষার্থীর শূন্য নম্বরকে ৮৫ এবং ১৩ নম্বরকে ৮৩ করা হয়েছে বলে তাঁর কাছে তথ্য এসেছে। এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে কীভাবে শিক্ষার্থীদের ফলাফল জিপিএ-৫ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এ ঘটনায় কারা জড়িত এবং কীভাবে নম্বরের এমন পরিবর্তন ঘটেছে, তা শনাক্ত করার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। বিষয়টি তদন্তের জন্য বুধবার মামলা করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণে ব্যাপক পরিবর্তন

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী জানান, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ১৯ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেয়, যাদের মধ্যে প্রায় ১২ লাখ উত্তীর্ণ হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুনঃনিরীক্ষণের পর ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় পাঁচ হাজার অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থী পাস করেছে এবং ৩ হাজার ৭৯ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ফলাফলে এত পরিবর্তনের পেছনে পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, কিছু পরীক্ষক নিজেরা খাতা মূল্যায়ন না করে অন্যদের দিয়ে মূল্যায়ন করিয়েছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

তদন্তে বেরিয়ে আসবে প্রকৃত ঘটনা

একজন শিক্ষার্থীর গোপন আবেদনের মাধ্যমে ফলাফলের এমন বড় পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আসায় পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতির স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ঘটনাটিতে কোন শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থী জড়িত, কোন প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে কিংবা সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের পরিচয় কী—তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

তদন্তের মাধ্যমে নম্বর পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ, এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং ফলাফল তৈরির প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের ভিত্তিতে

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles