নিউজ ডেস্ক : জলকদর নিউজ
ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দাবি, ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে থাকায় তারা চাইলে যেকোনো সময় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করতে পারে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরদিনই আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটে ত্রুটির খবর আসে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
তিনি বলেন, ‘এই পাওয়ার প্ল্যান্টের সুইচ রয়েছে ভারতের ঝাড়খণ্ডে। তারা যে কোনো সময় তা বন্ধ ও চালু করতে পারে।’ এ পরিস্থিতির পেছনে কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তবে সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আদানি পাওয়ারের কেন্দ্রের একটি ইউনিটে কারিগরি ত্রুটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আদানি পাওয়ার জানায়, ত্রুটি সমাধানের পর কেন্দ্রটির উভয় ইউনিট পুনরায় চালু হয়েছে এবং বাংলাদেশে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে। ২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী কেন্দ্রটি থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।
রিজভীর বক্তব্যের মূল বিষয় হলো—একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎস বিদেশে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশ সরবরাহ-নির্ভরতার ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো সময় রাজনৈতিক কারণে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিতে পারে বলে ধারণা করেছেন অনেকেই।
এদিকে, বাংলাদেশ বর্তমানে সামগ্রিকভাবেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি। উচ্চ এলএনজি মূল্য, গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের চাপের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়েছে বলে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ফলে আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি দেশের বিদ্যুৎ নিরাপত্তা, আমদানিনির্ভরতা এবং বিকল্প জ্বালানি উৎস নিশ্চিত করার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।


