সিলেট প্রতিনিধি:
৪২ ওয়ার্ডে চলবে কার্যক্রম, প্রথম ধাপে ১০ ওয়ার্ডে মশক নিধন
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তার রোধে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস ও মশক নিধনে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। নগরীতে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। প্রথম ধাপে ১০টি ওয়ার্ডে শুরু হয়েছে বিশেষ এ অভিযান।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে সিলেট নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
উদ্বোধনের পর তিনি নিজেই ফগার মেশিন হাতে নিয়ে মশক নিধন কার্যক্রমে অংশ নেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মশক নিধন ও এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসের কাজ আন্তরিকতার সঙ্গে পরিচালনার নির্দেশনা দেন।
৪২ ওয়ার্ডে চলবে অভিযান
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সিটি করপোরেশন অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে। সম্প্রতি নগরীতে মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রথম ধাপে ১০টি ওয়ার্ডে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রকৌশল বিভাগের সমন্বয়ে এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রশাসক আরও বলেন, সিসিকের কাছে মশক নিধনের পর্যাপ্ত ওষুধ মজুত রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম চালানো গেলে এক মাসের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ডেঙ্গু রোগীদের বিষয়ে প্রশাসকের বক্তব্য
সিসিক প্রশাসক জানান, সিলেটে এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের বেশির ভাগই অন্য এলাকা থেকে সংক্রমিত হয়ে এসেছেন বলে তাঁদের তথ্য রয়েছে। তবে এ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নগরীতে মশক নিধন ও লার্ভা ধ্বংসের কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে।
জনসচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং
মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগও নিয়েছে সিসিক। নগরীর মসজিদ, মার্কেট ও বিভিন্ন মহল্লায় লিফলেট বিতরণ এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
বিশেষ করে বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম, টায়ার ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ, জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে।
সিসিক প্রশাসক মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে নগরবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যারা
কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং মশক নিধনকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, নিয়মিত মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সিলেটে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি কমাতে কার্যকর অগ্রগতি হবে।
বিজ্ঞাপন



