ক্যাম্পাস (ইবি) প্রতিনিধি:
বিএনপি সরকারের ২০০ দিনের কথিত ব্যর্থতা তুলে ধরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ব্যানার টাঙানোর পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেটি খুলে ফেলে এবং পরবর্তীতে একই ব্যানার পুনরায় টাঙানোর ঘটনায় জাতীয় ছাত্রশক্তি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ককে শোকজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জাতীয় ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিএনপি সরকারের ২০০ দিনের ব্যর্থতা নিয়ে একটি ব্যানার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে টাঙানো হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির মাধ্যমে ব্যানারটি খুলে ফেলা হয়। এরপর ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা পুনরায় ব্যানার টাঙালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংগঠনটির আহ্বায়ককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়।
ছাত্রশক্তির দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সচেতনতার পরিবেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের প্রশ্ন—ক্যাম্পাসে একটি ব্যানার টাঙানোর জন্যও কি এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতির প্রয়োজন হবে?
ছবি: ছাত্রশক্তি ইবি শাখার নেতৃবৃন্দ

ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়টি মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জায়গা হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক প্রভাবের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তারা বিষয়টিকে ‘বিএনপির রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে’ বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিণত করার প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
এদিকে, শোকজ নোটিশে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তা নিয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে। তারা অবিলম্বে শোকজ নোটিশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ব্যানারটি কেন খুলে ফেলা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাও দাবি করেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা প্রক্টরের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

ছাত্রশক্তির দাবি:
১. ছাত্রশক্তির আহ্বায়কের বিরুদ্ধে দেওয়া শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার করতে হবে।
২. ক্যাম্পাস থেকে ব্যানার খুলে ফেলার কারণ স্পষ্ট করতে হবে।
৩. বিশ্ববিদ্যালয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।


