নিজস্ব প্রতিবেদক:
আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ কেটে মূল্যবান সামগ্রী চুরি ও লুটপাট বন্ধে লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের পুরো প্রক্রিয়া লাইভ সিসিটিভির মাধ্যমে যাত্রীদের সামনে সম্প্রচারের দাবি জানিয়ে লিগ্যাল নোটিস পাঠানো হয়েছে।
একই সঙ্গে বিমানবন্দরের লোডার, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং দুর্নীতি বন্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) কার্যকর নজরদারির আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়েছে।
সোমবার জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন সংশ্লিষ্টদের কাছে এ লিগ্যাল নোটিস পাঠান।
নোটিসে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান, দুদক চেয়ারম্যান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ কক্সবাজার, সৈয়দপুর, রাজশাহী, যশোর ও বরিশাল বিমানবন্দরের পরিচালক ও ব্যবস্থাপকদের বিবাদী করা হয়েছে।
নোটিসে বলা হয়, বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার। অথচ দীর্ঘদিন ধরে দেশে আসা ও বিদেশগামী যাত্রী, পর্যটক, বিদেশি কূটনীতিক, ব্যবসায়ী এবং বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমিকেরা লাগেজ চুরি ও মূল্যবান সামগ্রী খোয়া যাওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এতে অভিযোগ করা হয়, উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ড থেকে লাগেজ নামিয়ে কনভেয়ার বেল্টে পৌঁছানোর মধ্যবর্তী সময়ে একটি অসাধুচক্র তালাবদ্ধ লাগেজ কেটে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ মূল্যবান সামগ্রী চুরি করছে। এতে যাত্রীরা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
নোটিসে আরও বলা হয়, বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ব্যাগেজ সর্টিং এলাকায় নজরদারির ঘাটতি এবং সিসিটিভির ‘ব্লাইন্ড স্পট’ কাজে লাগিয়ে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মী ও লোডারদের একটি অংশ এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে লাগেজ পরিবহনের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
লিগ্যাল নোটিসে উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ড থেকে লাগেজ খালাস, ট্রলিতে তোলা, র্যাম্প এলাকা দিয়ে পরিবহন এবং ব্যাগেজ বেল্টে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ উচ্চমানের সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অ্যারাইভাল লাউঞ্জের বড় পর্দায় এসব কার্যক্রম সরাসরি (লাইভ) সম্প্রচারের ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া কাস্টমস বা নিরাপত্তা সংস্থার কোনো সদস্য নিরাপত্তা বা তল্লাশির প্রয়োজনে যাত্রীর লাগেজ খুললে সেই তল্লাশির কার্যক্রমও ক্যামেরার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট যাত্রীর সামনে সরাসরি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিসে বিমানবন্দরের লাগেজ হ্যান্ডলিং ব্যবস্থায় কার্যকর নজরদারি, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।


