নিজস্ব প্রতিবেদক : জলকদর নিউজ
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় মানবিক সহায়তায় যুক্ত স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মাননা দেওয়ার একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আয়োজকদের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠানের আড়ালে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজনকে সম্মাননা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ছাত্র-জনতার একটি অংশ।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর বাঁশখালীর এস কে বি কনভেনশন হলে ‘ছাত্র-জনতা বাঁশখালী’ নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে বন্যাকালীন মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখা স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজনের সঙ্গে সংগঠনটির আহ্বায়ক আব্বাস খান ও শিল্পী আজগর হোসাইন ফাহিমের সম্পৃক্ততার কথা জানা গেছে।
অনুষ্ঠানে বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হোছাইন মোহাম্মদকে সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পরই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। হোছাইন মোহাম্মদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর পক্ষে একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ক্রেস্ট গ্রহণ করেন বলে আয়োজক ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট চাম্বল বাজার এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় হোছাইন মোহাম্মদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করেছে। একই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা হওয়ার কথাও বলা হচ্ছে।
সম্মাননা অনুষ্ঠানে হোছাইন মোহাম্মদের পাশাপাশি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ওসমান সাদলী এবং যুবলীগ নেতা আরিফুল ইসলাম খানসহ আরও কয়েকজনকে ক্রেস্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় দেওয়া আরিফুল ইসলাম গাজী। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন—ছাত্র আন্দোলনের সময় হামলার অভিযোগ থাকা একজন ব্যক্তি কীভাবে মানবিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি পান এবং সম্মাননা আয়োজনের অর্থের উৎস কী।
তিনি আরও দাবি করেন, মানবিকতার মতো একটি ইতিবাচক উদ্যোগকে ব্যবহার করে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনরায় সামাজিক পরিসরে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা হলে তা নিয়ে ছাত্রসমাজ প্রতিবাদ করবে।
যা বলছেন আয়োজক, অভিযোগের বিষয়ে শিল্পী আজগর হোসাইন ফাহিম ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, সম্মাননা ক্রেস্টে কোনো ব্যক্তির দলীয় রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। হোছাইন মোহাম্মদকে ক্রেস্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আয়োজকদের রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ফাহিমের ভাষ্য, হোছাইন মোহাম্মদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না, তাঁর নামও মঞ্চে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে একটি ক্রেস্ট দেওয়ার ঘটনাকে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ হিসেবে দেখার যৌক্তিকতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
পুরোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন? এদিকে স্থানীয় সূত্রগুলো আজগর হোসাইন ফাহিমের অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি তৎকালীন বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে নিয়ে একাধিক গান পরিবেশন করেছিলেন।
ফলে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মাননা দেওয়ার এই আয়োজন শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সম্মাননা প্রাপকদের বাছাইয়ের মানদণ্ড, ক্রেস্ট প্রদানের সিদ্ধান্ত এবং অনুষ্ঠানের অর্থের উৎস—এসব বিষয়ে আয়োজকদের আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


