নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট এখনো বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে। অর্থ সংকটে থাকা ১২টি ব্যাংককে জরুরি তারল্য সহায়তা হিসেবে ৮৪ হাজার ৯৪৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব ব্যাংককে ‘ল্যান্ডার অব লাস্ট রিসোর্ট’ হিসেবে এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সহায়তা পেয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক—১৫ হাজার ৮১০ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এরপর এক্সিম ব্যাংক পেয়েছে ১২ হাজার ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ১০ হাজার ৮৪২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং ন্যাশনাল ব্যাংক ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
এ ছাড়া ইউনিয়ন ব্যাংক ৫ হাজার ৪২১ কোটি ১৬ লাখ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ৩ হাজার ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা জরুরি সহায়তা পেয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ৬ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে মোট ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি ১১ লাখ টাকা জরুরি তারল্য সহায়তা দিয়েছিল বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
ব্যাংক খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকার ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করেছে। এই আইনের আওতায় মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট বা অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ ঝুঁকিতে থাকা ব্যাংকের পুনর্গঠন, একীভূতকরণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এদিকে এরই মধ্যে এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক—এই পাঁচটি ব্যাংককে রেজল্যুশনের আওতায় নেওয়া হয়েছে। পরে এসব ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠন করা হয়েছে।
ব্যাংক খাতের আর্থিক দুর্বলতার আরেকটি বড় সূচক খেলাপি ঋণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।


