তাফহীমুর রহমান : ক্যাম্পাস (রাবি) প্রতিনিধি
গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা।
অনুষ্টানে প্রায় ৪ হাজার নবীন শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করেন। শিবিরের পক্ষ থেকে তাদেরকে ফুল, কোরআন, কলমদানি, বিভিন্ন উপহার ও অনুপ্রেরণামূলক বই প্রদান করা হয়। উপহার সামগ্রীর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর ও সাবেক ডাকসু জিএস অধ্যাপক গোলাম আজম সম্পাদিত প্রেরণামূলক বই “মনটাকে কাজ দিন” বইটিও রয়েছে।
বইটি নিয়ে আপত্তি ওঠে বামপন্থী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের। তাদের মতে গোলাম আজম একজন যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতা বিরোধী, (বিতর্কিত ইস্যু) তার বই কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হলো। তারা আরও অভিযোগ করেন, নবীনবরণের নামে একাত্তরের চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে সাধারণীকরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে বই উপহার দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এখনই কোনো বক্তব্য দিতে চাননি রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল। তিনি বলেন, “এটা নিয়ে আমরা এখন কথা বলতে চাচ্ছি না। যখন এটা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হবে, তখন আমরা এটার ক্লিয়ারেন্স দেব। যতক্ষণ বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে না, ততক্ষণ এটা নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন বোধ করছি না।”
তবে শিবিরের পক্ষ থেকে বইটি দেওয়ার বিষয়ে এর আগে দেওয়া ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বইটির বিষয়বস্তু মূলত শিক্ষার্থীদের কাজের প্রতি মনোযোগী ও কর্মঠ হওয়ার বিষয়ে। অর্থাৎ লেখক হিসেবে গোলাম আযমের পরিচয়ের চেয়ে বইটির বিষয়বস্তুকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এমন যুক্তি তারা দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নবীন শিক্ষার্থী বলেন, “শিবির যে জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের বরণ করে নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। লেখক বিতর্কিত কিংবা রাজাকার হোক বই পড়ে আমরা ব্যক্তিগতভাবে উপকৃত ও ভালো কাজে উদ্ভুদ্ধ হই, তাতে দোষের কিছু দেখছিনা।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, “বেশ কয়েক বছর যাবত একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের নর্মালাইজেশনের প্রক্রিয়া চলছে। শিবিরের নবীনবরণে মাথাপিছু সহস্রাধিক টাকা খরচ হয়েছে। এটা কোনো শিক্ষার্থীসুলভ সংগঠনের কর্মকাণ্ড নয়। এখানে যে দেশি-বিদেশি বাংলাদেশবিরোধী শক্তির বিনিয়োগ নেই, তার নিশ্চয়তা কী? একটা হস্তক্ষেপমুক্ত রাজনৈতিক অঙ্গন আমরা চাই। তবে দেশবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তদারকি জরুরি।”
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “নবীনবরণ আয়োজনের আড়ালে নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ রাজনৈতিক মতাদর্শের বই তুলে দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে গোলাম আযম, যিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতার কারণে ইতিহাসে চিহ্নিত, তাঁর লেখা বই নবীনদের হাতে তুলে দেওয়া কোনোভাবেই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞানচর্চার আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম (এমপি)। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নূরুল ইসলাম বুলবুল (এমপি) ও ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (এমপি)। শাখা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন


