চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার উত্তর বুড়িশ্চর গ্রামের সন্তান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত অবস্থায় তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর সাহসিকতা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত করে।

সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের জন্ম ৪ অক্টোবর ১৯৪৯। তাঁর পৈতৃক বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার উত্তর বুড়িশ্চর গ্রামে। তাঁর বাবা এস এম হাফেজ আহমেদ এবং মা শামসুন নাহার। তাঁর স্ত্রীর নাম ফোরকান ইবরাহিম। তাঁদের এক মেয়ে ও এক ছেলে।
১৯৭১ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। সেই সময় চাকরিরত অবস্থাতেই তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৯৬ সালে সামরিক চাকরি থেকে অবসর নেন।

মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে তাঁর বীরত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচিত হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকাটির পাশেই ছিল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলা। ১ ডিসেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ পর্যন্ত আখাউড়ায় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল যুদ্ধ হয়।
সেই যুদ্ধে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম ছিলেন ‘সি’ কোম্পানির দলনেতা। ৪ ডিসেম্বর ভোরে আখাউড়া মুক্ত হওয়ার আগে সংঘটিত সেই ভয়াবহ যুদ্ধে তিনি সহযোদ্ধাদের নিয়ে সরাসরি পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেন।


