বন্দর থেকে ৪০ লাখ টাকার ক্রোকারিজ উধাও, ধরা দুই যুবক। বুধবার (১৩ মে) অভিযান চালিয়ে সিএমপির ডিবি বন্দর বিভাগ তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার দুজন হলেন গাড়িচালক নীরব চৌধুরী ওরফে সাকিব ও মো. সাখাওয়াত হোসেন।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল আমদানিকৃত ৯৪ কার্টন ক্রোকারিজ। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই প্রায় ৪০ লাখ টাকার ওই চালান উধাও হয়ে যায়। ঘটনার সাতদিন পর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি হওয়া ৫০ কার্টন পণ্য। এ ঘটনায় সামনে এসেছে বন্দরকেন্দ্রিক পণ্য লোপাটকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তথ্য।
নূরউদ্দিন-মঈনউদ্দিন। যমজ দুই ভাই। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বের হওয়া পণ্য চুরি করা ওদের কাজ। দেড় বছর আগে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে চোরাই পণ্যসহ হাতেনাতে ধরা পড়ে কারাভোগ করলেও জামিনে বের হয়ে ফের একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে দুইভাই। এবার বন্দর থেকে খালাস করা চীন থেকে আমদানিকৃত ৪০ লাখ টাকার ক্রোকারিজ পণ্য চুরির মূলহাতাও যমজ দুই ভাই। নগর গোয়েন্দা পুলিশ মঈনউদ্দিনকে তার গ্রামের বাড়ি পটিয়ার বাকখাইন থেকে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে গ্রেপ্তার হয়েছে নূর উদ্দিনের কাভার্ডভ্যান চালক নীরব চৌধুরী সাকিব, সহযোগী সাখাওয়াত হোসেন ও আশিক রায়হান নামে আরো তিনজন। তবে নুরউদ্দিন পুলিশের হাত ফসকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। নগরীর কদমতলী ডিটি রোডে তাদের ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের অফিসও রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভাবের তাড়নায় ছয় বছর আগে পটিয়ার বাকখাইনের গ্রামের বাড়ি ছেড়ে নগরীতে আসে দুই ভাই। শুরুর দিকে গাড়ির হেলপারের চাকরি করতো। তবে খুব বেশি দিন নয়। পরিচয় হয় পণ্য চুরি সিন্ডিকেট চক্রের সদস্য মনার সঙ্গে।
জড়িয়ে পড়ে বন্দর থেকে বের হওয়া পণ্য চুরির সিন্ডিকেটে। ছয় বছরের মাথায় দুই ভাই পণ্য চুরির সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এরমধ্যে তারা কিনেছেন বেশ কয়েকটি কাভার্ডভ্যান। ক্রোকারিজ পণ্য চুরিতে ব্যবহৃত যে কাভার্ডভ্যানটি গোয়েন্দা পুলিশ জব্দ করেছে সেটিও নুরউদ্দিনের। যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করেন অর্ধ লক্ষ টাকা দামের এসইউভি (স্পোর্টস ইউটিলিটি ভ্যাহিকেল) এইচআর কার। গাড়িটি নিয়েছেন কয়েক সপ্তাহ আগে। এরআগে নিশান এক্সট্রেইল জিপ ব্যবহার করতো। রয়েছে পাঁচ লাখ টাকা দামের ইয়ামাহা (আর ওয়ান-৫) মোটরসাইকেল। গ্রামে তৈরি করেছে সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত কোটি টাকার ভবন। গাড়িগুলো পুলিশ জব্দ করেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম জানান, বন্দর থেকে পণ্য চুরি করা নুরউদ্দিন-মঈনউদ্দিনের পেশা। তারা বিষয়টিকে ব্যবসা হিসাবে দেখেন। ক্রোকারিজ পণ্য চুরির ঘটনার মূলহোতাও দুই ভাই।


