নিজস্ব প্রতিবেদক
জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষী মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাঁর ছোট ভাই চাঁন মিয়া পশারীর একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন চাঁন মিয়া পশারী। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি কি না, জানতে চাইলে তিনি তা স্বীকার করেন।
চাঁন মিয়া পশারীর দাবি, ১৯৭১ সালে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী রাজাকার ছিলেন না। সে সময় সাঈদীর বয়স কম ছিল বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় রাজাকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন রামেস মোল্লা, মোসলেম মাওলানা ও সেকেন্দার শিকদারের মতো ব্যক্তিরা।
আগের সাক্ষাৎকারে বড় ভাই মানিক পশারী অর্থের প্রলোভনে সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছিলেন এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছিলেন চাঁন মিয়া। তবে সম্প্রতি সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, তাঁকে কেউ টাকার প্রলোভন দেখায়নি। তাঁর ভাষ্য, বড় ভাই এ বিষয়ে রাজি হয়েছিলেন কি না, তা তিনি জানেন না।
সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আদালতের রায় ও বিচারিক নথিতে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত বলে রায় দিয়েছিল। পরবর্তী আপিল প্রক্রিয়ায় তাঁর সাজা পরিবর্তন করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
চাঁন মিয়া পশারীর বক্তব্য ও আদালতের নথিতে থাকা তথ্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।


